কৌতুক: পাট ক্ষেতটা দেখাই দেন…

    0
    31

    নতুন জামাই তার শাশুড়িকে বলল, আম্মা, আপনার আর কষ্ট করতে হবে না। আমাকে একটু পাট ক্ষেতটা দেখাই দেন, আমি নিজেই গিয়ে খেয়ে আসি!

    বিয়ের পর পটলা প্রথম তার শ্বশুরবাড়িতে গেল। জামাই এসেছে, এই নিয়ে বাড়িতে ধুম পড়ে গেল। সে যেন বিয়েরই আরেক উৎসব। ঘরবাড়ি নতুন করে সাজানো হলো। বাজার থেকে সবচেয়ে বড় বড় মাছ কিনে আনা হলো। খাসি জবাই করা হলো। মুরগি জবাই করা হলো। কোনো কিছুর কমতি নেই। শ্বশুর নিজে থেকে সব তদারকি করছেন। অন্যদিকে শাশুড়ি নিজে থেকে রান্না করছেন। আজ নিজের হাতে খাওয়াবেন মেয়ের জামাইকে। 

    পোলাও-কোর্মা, খাসির মাংসের রেজালা, মুরগির রোস্ট, রুই মাছ ফ্রাই, বোয়াল মাছের কারি, ছোট মাছের চচ্চরি, ১০/১২ ধরনের ভর্তা, বেগুন ভাজি, লাউ শাক, পাট শাক ভাজিসহ বিভিন্ন আইটেমের আয়োজন করা হয়েছে। 

    স্ত্রীর কাছে এত আয়োজনের কথা শুনে পটলা চিন্তায় পড়ে গেল। সে ভাবল, পোলাও খেলে বেশি খেতে পারবে না। এজন্য স্ত্রীকে বলল, সাদা ভাতের আয়োজন করতে। সে পোলাও খুব একটা খায় না। সাদা ভাত খাবে।

    ওদিকে রান্নার ঘ্রাণ বেড়েই চলছে, ঘ্রাণে পটলার ক্ষুধা বেড়ে গেল কয়েকগুণ। চার পাঁচ ঘণ্টা ধরে রান্না হচ্ছে। রান্নার ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে চারপাশ। জিভে জল চলে এসেছে। কখন খাবার খেতে ডাকবে, এই অপেক্ষায় রয়েছে সে।

    বেলা তিনটায় খাবার খেতে ডাক পড়ল পটলার। সে তো পড়িমরি করেই খাবার খেতে ঢুকল। সে আসলে হাত ধুয়ে রেডিই ছিল। খাবার খেতে বসে পটলার চোখ কপালে ওঠার অবস্থা। এত আয়োজন!

    কোনটা রেখে কোনটা খাবে, এই নিয়ে পটলা দ্বিধায় রয়েছে। সাদা ভাত দেখে সে কিছু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। যাক, এবার শান্তিতে খাওয়া যাবে!

    শাশুড়ি আজ নিজ হাতে সব খাওয়াবেন। তিনি হাসতে হাসতে পটলার থালায় সাদা ভাত তুলে দিলেন। এরপর প্রথমেই দিলেন পাট শাক ভাজি। পটলা দেরি না করে পাট শাকটুকু খেয়ে খেলল। কারণ তার চোখ খাসির রেজালা, মুরগির রোস্ট, বড় বড় মাছের দিকে।

    পাট শাক ভাজি খুব দ্রুত খেয়ে ফেলায় শাশুড়ি ভাবল, জামাইয়ের বুঝি পাট শাক খুব পছন্দ এবং খুব ভালো রান্না হয়েছে। নিজে রান্না করেছেন, ভালো না হয়ে উপায় নেই। তিনি পটলার থালায় আরেকটু পাট শাক ভাজি তুলে দিলেন। এবারও পটলা সঙ্গে সঙ্গেই শাকটুকু খেয়ে ফেলল। তার আর দেরি সইছে না। নতুন জামাই বলে কিছু বলতেও লজ্জা পাচ্ছে। 

    জামাইয়ের পাট শাক খাওয়া দেখে শাশুড়ি বললেন, বাবা তোমার বুঝি পাট শাকটা খুব ভালো লেগেছে, আরেকটু দেই। বলতে বলতেই একগাদা পাটশাক তুলে দিলেন শাশুড়ি। এতে পটলার মেজাজটা গরম হলো। খাওয়ার এত এত আইটেম, মাংসের রেজালা, রোস্ট, মাছের মাথা তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। অথচ কি না পাটশাক খেয়েই পেট ভরে গেল!

    সে তবু শাশুড়ির দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে পাটশাকটুকু খেয়ে ফেলল। এই দেখে শাশুড়ি বললেন, বাবা আরেকটু দেবো? বলেই পাটশাক এগিয়ে দিতেই পটলা উঠে দাঁড়াল। 

    পটলা বলল, আম্মা, আপনার আর কষ্ট করতে হবে না। আমাকে একটু পাট ক্ষেতটা দেখাই দেন, আমি নিজেই গিয়ে খেয়ে আসি!

    loading ...

    Source

    Facebook Comments

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here