Latest News :
গ্যালাক্সি এস৭ কতটা পানিরোধী     কম্পিউটারের ভবিষ্যত কী?      সফল হতে স্বপ্ন দেখতে হবে      অঢেল টাকার মালিক ইউটিউবে ভিডিও দিয়ে      স্মার্টফোনটি দূরে রাখুন ৮টি কারণে      ফেসবুকের সফটওয়্যার ছাড়া ভিডিও নামানো     আপনার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট ইগনোর করল কে     কাগজের মত ভাঁজ করা যাবে এলজি মনিটর      সাইবার আক্রমণে অফলাইনে এইচএসবিসি     আসছে বহু প্রতীক্ষিত Apple’s iWatch     অ্যাপ ফেসবুক বন্ধু তালিকার আপডেট জানাবে     এখন যেকোন ল্যাপটপ, নোটবুককে খুব সহজেই বানিয়ে ফেলা যাবে টাচ স্ক্রিন ডিভাইস      বিক্রি কমছেই পিসির      অপরাধীদের পছন্দ আইফোন     Programming ebook বাংলা এবং ইংলিশ যারা খুজছেন পাচ্ছেন না সাথে সকল প্রকার বাংলা এবুক ফ্রী      এখন ফ্রিলেঞ্ছিং কাজ শিখেও আয় করতে পারেন প্রতিদিন $3-5$      নতুন মেসেজিং অ্যাপ নিয়ে আসছে গুগল
.

পুকুর চুরি হলো এ যুগের হ্যাকিং

কিছুদিন ধরে যেসব বিষয় নিয়ে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে তার মধ্যে ‘হ্যাকিং’ বেশ ওপরের দিকেই থাকবে। যারা তথ্য-প্রযুক্তি নিয়ে একটু ঘাটাঘাটি করেন, এতোদিন হ্যাকিং শব্দটি তাদের কাছেই কিছুটা পরিচিত ছিল। কিন্তু সম্প্রতি একটি আলোচিত হ্যাকিং কর্মকাণ্ডের জন্য এই শব্দটি বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। যদিও হ্যাকিং শব্দটির পরিভ্রমণ খুব একটা দীর্ঘ নয়, কিন্তু এরইমধ্যে এর ইতিহাস আমাদের বেশকিছু আলোচিত অধ্যায় মনে করিয়ে দেয়। চলুন ঘুরে আসা যাক হ্যাকিংয়ের কিছু আলোচিত অধ্যায় থেকে—
সবচেয়ে বড় ব্যাংক হ্যাকিং
বাংলাদেশ ব্যাংকের এ্যাকাউন্ট হ্যাককে বলা হচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যাংক হ্যাকিং। ডিজিটাল চুরির মাধ্যমে ব্যাংকের এ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকাররা হাতিয়ে নিয়েছে ১০০ মিলিয়ন বা ১০ কোটি মার্কিন ডলার। ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ দেশের বাইরে থেকেই অজ্ঞাতনামা হ্যাকাররা এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘হ্যাকড’ করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা এজন্য ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংককেই দায়ী করছেন। অন্যদিকে, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বলা হয়েছে, তাদের ওখান থেকেই যে হ্যাকিং হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিযোগ পাওয়ার পর থেকে তারা সাধারণ নিয়ম অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছে।
ব্যাংকিং জালিয়াতির ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের মত হচ্ছে—বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ স্থানান্তরের কাজের সঙ্গে জড়িতদের সংকেত লিপি (কোড) চুরি ছাড়াও হ্যাকাররা সম্ভবত বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মীদের ওপর গুপ্তচর বৃত্তি চালিয়েছে, তাদের সঙ্গে গভীর বোঝাপড়াও তৈরি করেছে।
বেলজিয়াম ভিত্তিক আন্তব্যাংক আর্থিক লেনদেনের নেটওয়ার্ক সুইফট কর্তৃপক্ষও বিষয়টির তদারকি করছে। প্রেরণ ও গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মাঝে যে বার্তা বিনিময় হয়েছে সেটি বিশ্বাসযোগ্য ছিল। সুইফট বলেছে, তাদের নেটওয়ার্ক অপব্যবহার হয়েছে এ রকম কোনো আভাস পাওয়া যায়নি।
ক্যাসপারস্কি ল্যাবের গবেষক জুয়ান গুয়েরো বলেন, ‘অপরাধীরা ব্যাংক কর্মচারীদের পর্যবেক্ষণের পর বার্তা পাঠানোর প্রক্রিয়া বা সঠিক প্রটোকল অনুসরণ করে সুইফটের মাধ্যমে টাকা পাচার করতে পারে। হ্যাকাররা আরেকটি পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকতে পারে, এর নাম ‘সামাজিক ইঞ্জিনিয়ারিং’। এখানে আক্রমণকারীরা নিখুঁতভাবে মনোবৈজ্ঞানিক একটি খেলার মাধ্যমে অন্যের কাছ থেকে নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করে।’
স্টাক্সনেটের আক্রমণ
একটা সময় ছিল যখন মনে করা হতো ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলে কম্পিউটারে খুব বড় ধরনের সাইবার হামলা করা সম্ভব নয়। এই ধারণাকে এক রকম বুড়ো আঙুলই দেখিয়েছে স্টাক্সনেট। প্রমাণ করেছে ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও সাইবার হামলা চালানো সম্ভব।
এরইমধ্যে স্টাক্সনেট সবচেয়ে বড় সাইবার হামলা হিসেবে স্বীকৃত। ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালানো হয় এই ভাইরাস দিয়ে। ইরানের পরমাণু কার্যক্রম ঠেকানোর জন্য যে ক’টি প্রজেক্ট হাতে নেওয়া হয়েছিল তার মধ্যে স্টাক্সনেট অন্যতম। কম্পিউটার ব্যবহার করে যন্ত্রপাতি অকেজো করে দেওয়ার কাজটাই করে থাকে স্টাক্সনেট। প্রমাণিত হয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মিলে তৈরি করেছে এই ওয়ার্ম বা গোপন সফটওয়্যার। পারমাণবিক স্থাপনায় ব্যবহূত হয় সিমেন্সের যন্ত্রপাতি। আর স্টাক্সনেটের কাজ হলো সিমেন্সের কাজে ব্যাঘাত ঘটানো। মাইক্রোসফট উইন্ডোজের ভেতর এই ওয়ার্ম প্রবেশ করিয়ে এই সাইবার হামলা চালানো হয়। ভয়ঙ্কর ব্যাপার হচ্ছে—এটি মেশিনের চাকাগুলোকে বিভিন্ন গতিতে পরিচালিত করতো এবং অপারেটর তা ধরতেও পারতেন না। আর বুঝবেনই বা কি করে, তাকে যে স্টাক্সনেট দেখাতো ভুল ডাটা! ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভের মাধ্যমে এই ভাইরাস কম্পিউটারে প্রবেশ করা হয়েছিল। ২০০৯ সালের শেষ দিকে শুরু করে ২০১০ সালের শুরুর দিক এই সময়ের মধ্যে এই হামলা চালনো হয়। এই হামলা ইরানের পরমাণু কেন্দ্র নাতানসের বেশ বড় ক্ষত সাধন করে। তবে শুরুতে এটি কেবল ইরানে ছাড়া হলেও এখন ভারত, ইন্দোনেশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের কম্পিউটার সিস্টেমে এর অস্তিত্ব মিলেছে।